অরুণাচল-ভ্রমণ–পর্ব–৩

অরুণাচল প্রদেশ ভ্রমণ – পর্ব – ৩

আমাদের ভ্রমণ পথ – গৌহাটি থেকে ভালুকপং হয়ে দিরাং তারপর তাওয়াং – ফিরতি পথে বমডিলা হয়ে গৌহাটি। সময়কাল – ডিসেম্বর ২০১৮।

 

রাকেশ রোশন (হৃতিক রোশনের বাবা) ১৯৯৭ সালে একটি সিনেমা করেন নাম – কোয়লা বা কয়লা। সুন্দরী মাধুরী দীক্ষিত আর ছিলেন শাহরুখ খান। সেই সিনেমার অনেক দৃশ্য অরুণাচলে শুট করা হয়েছিল। বিশেষ করে নাম করে তাওয়াং, বমডিলা ও মাধুরী লেক। সত্যি কথা বলতে কি, তারপরই আমরা বাঙালীরা নড়েচড়ে বসলাম অরুণাচল আসার জন্য।

আজকে যাব ভালুকপং হয়ে দিরাং। ১৪০ কিমি রাস্তা। সময় লাগবে কম-বেশি ৫ ঘন্টা। ভৌগলিকভাবে, অরুণাচল প্রদেশকে চারটি স্বতন্ত্র অঞ্চলে বিভক্ত করা যেতে পারে: তুষার-ঢাকা পাহাড় (১৮,০০০ ফুট ও তার বেশি); হিমালয়ের নিম্নতম সীমা (১১,৫০০ ফুট ও তার বেশি); উপ-হিমালয়ান সিওয়ালিক পাহাড় (২৩০০ ফুট ও তার বেশি); এবং পূর্ব আসাম সমভূমি। এই শারীরবৃত্তীয় অঞ্চলগুলিতে ঘটে যাওয়া মাটিগুলি হ’ল ইনসেপটিসোল (৩ শতাংশ), এন্টিসোল (৩৫ শতাংশ), আলটিসোল (১৪ শতাংশ) এবং আলফিসল (০.৫ শতাংশ) 0.5 অবশিষ্ট মাটি বিবিধ হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যেতে পারে। অরুণাচলে বেশি বৃষ্টি (গড়ে ৩০০ সেন্টিমিটার) হয় বলে তার মাটি শক্ত নয়। তাই ধস্ নেমে যায়। রাস্তা একবার সারানো হলেও আবার ধস্ আবার রাস্তা সারাতে হয়। তার প্রমাণ পেলাম ভালুকপং থেকে কিছু দূরে এসে। রাস্তা সারানো হচ্ছে। তাই সারি দিয়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে। গাড়ি থেকে নেমে সবাই বেশ কয়েক মিনিট চেঁচামেচি শুরু করে দিল। এটা কি মামদো ভুতের কান্ড নাকি। তিন তিন ঘন্টা চুপচাপ বসে থাকতে হবে? কেউ কেউ ড্রাইভারকে ধমকালো – তুমলোক জানতে, তো আগে মানে সকাল সকাল কিঁউ নেহি নিকলা? উনলোক বলছে কি আগে এলে এ জায়গা মে আটকাতে নেহি হোতা..ইত্যাদি ইত্যাদি। ড্রাইভাররা যতই বোঝানোর চেষ্টা করছে যে দেরিটা হয়েছে আমাদের জন্যে, গান্ডেপিন্ডে লুচি আলুর দম খেয়ে, চা খেয়ে ঢেঁকুর তুলে ছবি তুলে তারপর তো গাড়ি স্টার্ট দেবে, কে শোনে কার কথা।

দিরাং এখনও বহু দূরে। কিন্তু সবাই এমন ভাব করতে লাগলো যেন অফিসে দেরি হয়ে যাবে। আমি হাঁক দিয়ে বললাম – চল সবাই ঝর্ণা দেখে আসি। কোথায়? কোথায়? এইতো একটু নীচে। সবাই বলে উঠল – ও হ্যাঁ আসার সময় দেখেছিলাম তো, ড্রাইভারগুলোই দাঁড়ালো না। আাবার ড্রাইভারের দোষ! চল সবাই, যেতে আধ ঘন্টা আসতেও তাই। যেটা বললাম না তা হল – আসার সময় ওপর দিকে আসতে হবে, তখন ঠেলা বুঝবে।

ছুট্টে এসে আামর হাত ধরল আমাদের সবার ‘মিষ্টি কুটুম’ বলল – কথায় যাচ্ছো? আামাদের সঙ্গে এক দম্পতি আছেন, এ তাদের মেয়ে। ইনি আমাদের সবচাইতে ছোট্টো সদস্য, বয়স চার। দিল্লিতে জন্ম ও কিছুদিন থাকার পর কলকাতায় এসে কিছুদিন, এখন আবার থাকে উড়িষ্যার কাছে। তাই তার ভাষাটা দারুন শুনতে লাগে – হিন্দি, বাংলা আর উড়িয়া মেশানো। যেমন কোথায না বলে বলল কথায়। আবার বলল – কথায় যাচ্ছি?

আমি বললাম – ঝর্ণা দেখতে

ঝর্ণা কি?

মানে ওয়াটার ফলস্। যেখানে জল সবসময় পড়ে – ওপর থেকে নিচে গড়িয়ে নামে।

জল পড়ে কেন জল থাকে কোথায়?

দ্যাখ পাহাড়ের গায়ে বৃষ্টির জল আটকে থাকে, তারপর সেই জল পাহাড়ের ফাঁক দিয়ে টুক টুক করে বেরিয়ে নিচের দিকে আাসে। আাবার ধর পাহাড়ের গায়ে বিরাট একটা লেক আছে, ঝর্ণার জল সেখান দিয়েও আসতে পারে। প্রায় সতের রকমের ঝর্ণা আছে পৃথিবীতে জানিস। আমরা যে ঝর্ণা দেখতে যাচ্ছি তাকে বলা যায় হর্সটেল মানে ঘোড়ার লেজের মত দেখতে।

আমাদের ‘মিষ্টি কুটুম’ প্রশ্ন করেই চলেছে।

হর্সটেল ঝর্ণা মানে কি?

ঝর্ণার জল প্রথমে সরু করে পড়ে তারপর চারিদিকে ছড়িয়ে যায়।

এই যে পাহাড় এটা কি করে হল?

নাহ্ তোর জন্য দেখছি জিওগ্রাফিটা ভালো করে পড়তে হবে।

বল না পাহাড় কি করে হল?

পাহাড় পর্বত তৈরি হওয়ার অনেক কারণ আছে। ভলকানো থেকে হতে পারে, ভুমিকম্প থেকে ও পাহাড়ের জন্ম হয়। আাবার আমাদের পৃথিবী কয়েকটা প্লেটের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার মধ্যে দুটো প্লেটের নাম ইন্ডিয়ান প্লেট আর ইউরেশিয়ান প্লেট। এই দুটো প্লেটের ধাক্কায় জন্ম হয়েছে আমাদের গ্রেট হিমালয়ের, যার ওপর দিয়ে আমরা এখন যাচ্ছি। আগে এখানে টেথিস নামে একটা সাগর বা সমুদ্র ছিল।

সাগর থেকে পাহাড় কি করে হল?

আমাদের ‘মিষ্টি কুটুম’ প্রশ্ন করেই চলেছে।

আপাতত আপনাদের কিছু ছবি দেখাই। আশা করি ভালো লাগবে….

ফিরে আসছি পরের পর্বে দিরাং এর সৌন্দর্য নিয়ে।

Arunachal tour - Dirang

Arunachal tour - way to Dirang

Arunachal Bhraman

Arunachal Tour Bhraman

Arunachal - way to Dirang

Arunachal - bhraman

Arunachal - tour and bhraman

– দেবদুলাল দাস

Debdulal Das

https://www.facebook.com/debdulal.das.351

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক পোস্ট

আমাদের কথা

আমাদের কথা

নতুন যুগের নতুন স্বপ্ন নিয়ে আমাদের পথ চলা শুরু । আমরা যারা স্বপ্ন দেখি সাহিত্য নিয়ে, স্বপ্নকে পরিণত করি সাহিত্যে, আসুন হাতে হাত মিলিয়ে গড়ে তুলি – সাহিত্যের স্বপ্ন স্বপ্নের সাহিত্য ।।

লেখা পাঠান

যারা সাহিত্যের স্বপ্ন নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে চান আমাদের কাছে পাঠান – কবিতা, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী, বইয়ের সমালোচনা, নাটক সিনেমা সমালোচনা – ইমেল – unilit17@gmail.com

– দেবদুলাল দাস