সিনেমা সমালোচনা – গোত্র

সিনেমাঃ গোত্র

পরিচালকঃ নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

অভিনয়েঃ অনসূয়া মজুমদার, নাইজেল আকারা, মানালি দে, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, সাহেব চট্টোপাধ্যায়

নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় নতুন সিনেমা ‘গোত্র’। নাম শুনেই বোঝা যায় পরিচালকরা একটি সামাজিক বার্তা দিতে চাইছেন। কি সেই বার্তা? ট্রেলর দেখে কিছু বোঝা যায় কিনা দেখা যাক।

বাঙালি বা বলা ভালো ভারতীয় পরিচালকদের প্রিয় বিষয় হিন্দু-মুসালমান ও তার ভালো-মন্দ। সবশেষে মনুষ্যত্বের জয়গান। নন্দিতা-শিবপ্রসাদ ও সেই রাস্তায় হেঁটেছেন।  বেলাশেষে, প্রাক্তন, পোস্ত, হামি, কন্ঠের পর গোত্র। একের পর এক সিনেমা, একের পর এক হিট। সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি। টুপি খুলে স্যালুট জানাতেই হচ্ছে।

ছবির গল্প – নাইজেল আকারা একজন জেল থেকে ছাড়া পাওয়া আসামি। সে বলে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সে কোনো দোষ করে নি। এখন, তাকে প্রমান করতে হবে সে একজন সৎ মানুষ। একজন পুলিশ অফিসার তাকে সাহায্য করে। সেই পুলিশ অফিসারের বন্ধুর বাড়িতে কেয়ারটেকারের চাকরি পায় সে। বাড়ি আগলে বসে আছেন সত্তর বছরের মহিলা (অনসূয়া মজুমদার)। তাঁর একমাত্র ছেলে থাকে বাইরে। সেই ছেলেই কেয়ারটেকার রাখতে চায় একলা মায়ের দেখাশোনা করার জন্য। তারেক মিঞা (নাইজেল) জাতিতে মুসলমান। কিন্তু বাড়িতে আছেন ঠাকুর রাধা-গোবিন্দ। সে বাড়িতে মুসলমান?  এইখানে ছেলে (সাহেব চট্টোপাধ্যায়) মায়ের কাছে মিথ্যে বলে। তারেকের মুসলমান পরিচয় লুকিয়ে রেখে বলে তার নাম তারক, সে হিন্দু। নাইজেল মানে তারেক মিঞা প্রতিবাদ করতে গিয়েও বলা হয় না যে সে মুসলমান। ছেলে চলে যায় বিদেশে আর সংসার শুরু হয় দুই অচেনা মানুষের। ঠিক এইখান দিয়ে আামাদের টেনশন শুরু। নিরামিষ খাওয়া খিটখিটে বুড়ির সঙ্গে থাকতে শুরু করে মুসলমান মিঞা। আছে মানালি দে, যে নাইজেলকে ভালোবাসে। আছে পাড়ার প্রোমোটার ভিলেন খরাজ মুখোপাধ্যায়। বাড়ির ব্রাক্ষণ অম্বরীশ ভট্টাচার্য। মুসলমান কি ধরা পড়বে হিন্দু বিধবার কাছে? যদি পড়ে মেনে নেবে কি? কি হবে শেষ পর্যন্ত? জানতে হলে দেখতে হবে ‘গোত্র’।

চিত্রনাট্য – সিনেমটি দেখে মনে হয় খুব কম খরচে করা হয়েছে। মুলত একটা বাড়ির মধ্যে শুট করা, সেভাবেই চিত্রনাট্য সাজানো। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম উড়িষ্যার আউটডোর শুটিং দেখে। পরিচালকরা খুব বেশি টান টান চিত্রনাট্য রাখেন নি। সিনেমার থিমের সঙ্গে সেটা যেতও না।

অভিনয়প্রথমেই বলি সবার অভিনয় খুব ভালো হয়েছে। এই পরিচালকদের একটা বড় গুন হল সবার ভেতর থেকে অভিনয়টা বের করতে যানেন। যারা ‘হামি’ দেখেছেন তারা জানেন। আলাদা করে যদি বলতেই হয় তাহলে খরাজ মুখোপাধ্যায়। ভিলেন কিন্ত সবার মন কেড়েছেন। যেমন ‘হামি’ সিনেমায় তার অভিনয় মনে রাখার মত ছিল।

অন্যান্য – এই ধরনের সিরিয়াস সিনেমায় গান একটু বেশি ব্যাবহার করা হয়েছে। কিন্তু গানগুলো দারুন লাগলো। ডায়লগ্ ঠিকঠাক। খুব ভালো লাগে যখন পরিচালকরা তাদের সিনেমাটিক বক্তব্য পেশ করেন – অনসূয়া মজুমদারের মুখে, দয়া নদীর কাছে যেখানে চন্ডাশোক যুদ্ধের পর পালটে যাচ্ছেন প্রিয়দর্শী অশোকে।

সিনেমাটা দেখেই আসুন, ভালো লাগবে।

আমার একটি প্রিয় গান এখানে আপনাদের জন্যে – কথা ও সুর – অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় – কন্ঠ – শ্রেয়া ঘোষাল

– দেবদুলাল দাস

Debdulal Das

https://www.facebook.com/debdulal.das.351

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক পোস্ট

আমাদের কথা

আমাদের কথা

নতুন যুগের নতুন স্বপ্ন নিয়ে আমাদের পথ চলা শুরু । আমরা যারা স্বপ্ন দেখি সাহিত্য নিয়ে, স্বপ্নকে পরিণত করি সাহিত্যে, আসুন হাতে হাত মিলিয়ে গড়ে তুলি – সাহিত্যের স্বপ্ন স্বপ্নের সাহিত্য ।।

লেখা পাঠান

যারা সাহিত্যের স্বপ্ন নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে চান আমাদের কাছে পাঠান – কবিতা, গল্প, ভ্রমণ কাহিনী, বইয়ের সমালোচনা, নাটক সিনেমা সমালোচনা – ইমেল – unilit17@gmail.com

– দেবদুলাল দাস